বিশ্ব মানচিত্রের উপর সোনার বার এবং মার্কিন ডলারের নোট রাখা, রিজার্ভে সোনার উত্থান দেখানো হচ্ছে
বিশ্ব মানচিত্রের উপর সোনার বার এবং মার্কিন ডলারের নোট রাখা, রিজার্ভে সোনার উত্থান দেখানো হচ্ছে

বিশ্ব রিজার্ভে সোনার উত্থান এখন ডলারের চেয়ে বড় হওয়ার লক্ষণ, আর্থিক কৌশল নিয়ে আগ্রহী বন্ধুদের জন্য এটি দেখার মতো প্রেক্ষাপট।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে সোনা এখন ডলারের চেয়ে বড় ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে সোনার অংশ মার্কিন ট্রেজারি বন্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের শেষে রিজার্ভে সোনার হিস্যা ছিল ২৭%, যা এক বছর আগে ছিল ২০%। এই সময় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের হিস্যা ২৫% থেকে কমে ২২% হয়। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ঘটেছে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলার রিজার্ভ জব্দের পর বিকল্প সম্পদ খোঁজার প্রবণতার কারণে।

২০২২ সালে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ডলার রিজার্ভ জব্দ করার পর থেকে অনেক দেশ সোনা কিনতে শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে ৩৬,০০০ টনের বেশি সোনা মজুত আছে, যা ব্রেটন উডস ব্যবস্থার সময়কার প্রায় ৩৮,০০০ টনের কাছাকাছি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালীন রেকর্ড স্পর্শ করে।

যদিও মোট রিজার্ভে ডলারভিত্তিক সম্পদ এখনও সবচেয়ে বেশি — ৪২%। ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় কিছুটা কমে ৮৫০ টনে দাঁড়ায়, তবে চীন, পোল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত এই সময় সবচেয়ে বেশি সোনা কিনেছে। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি সোনা কিনেছে স্টেবলকয়েন প্রতিষ্ঠান টেথার, যা এক বছরে ১০০ টনের বেশি সোনা কিনেছে। তবে ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তুরস্ক ১৩০ টন সোনা বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দেয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রিজার্ভ হ্রাসের ঘটনা।

অন্যদিকে, ইউরোর ভূমিকা গত এক দশকে ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ইউরোভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণপত্রের বিক্রি ৩০% বেড়ে এক লাখ কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইউরো অঞ্চলে নিট ৮৫০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেন, যা ইউরো চালুর পর থেকে সর্বোচ্চ প্রবাহের মধ্যে একটি।

তথ্য

  • ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভের ২৭% ছিল সোনা, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চেয়ে বেশি
  • মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের হিস্যা ২০২৪ সালে ২৫% থেকে কমে ২০২৫ সালে ২২% হয়
  • বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে ৩৬,০০০ টনের বেশি সোনা মজুত আছে
  • ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় ছিল ৮৫০ টন, আগের বছরগুলোতে ছিল এক হাজার টনের বেশি
  • স্টেবলকয়েন প্রতিষ্ঠান টেথার ২০২৫ সালে ১০০ টনের বেশি সোনা কিনে
  • ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তুরস্ক ১৩০ টন সোনা বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দেয়

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি