
তেলের চাহিদা কমার এই ধারা স্থায়ী হলে শক্তি নীতি বদলের প্রেক্ষাপট এক সহকর্মীর সঙ্গে বোঝার মতো।

তেলের চাহিদা কি চূড়ায় পৌঁছেছে? ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য
ইরানে উত্তেজনা বাড়ার পর বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা দ্রুত কমছে, কিন্তু এর পেছনে মূল কারণ হলো ভোক্তাদের আচরণের পরিবর্তন। জেপি মরগ্যানের তথ্য অনুযায়ী, চীনে তেলের চাহিদা ইতিমধ্যে ৯% কমেছে, যা ২০০৮ সালের মন্দার সময় বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমার চেয়ে তিন গুণ বেশি। এই পরিবর্তন সরকারি নির্দেশ নয়, বরং চীনা ভোক্তারা বৈদ্যুতিক যান ও গণপরিবহন বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ঘটছে। মে মাসে চীনের মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ির এক-চতুর্থাংশই ছিল বৈদ্যুতিক, যা এক বছর আগের চেয়ে ৩৩% বেশি।
ইউরোপেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি বাড়ায় নতুন যানবাহন নিবন্ধন গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বায়ু ও সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ায় বৈদ্যুতিক যান সাশ্রয়ী হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়নি, কারণ রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারি প্রণোদনা বাতিল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণগত পরিবর্তন ইতিহাসে তেলের চাহিদাকে স্থায়ীভাবে কমিয়েছে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) গঠিত হয় এবং জ্বালানি দক্ষতা ও বিকল্প শক্তির দিকে ঝোঁক বাড়ে। কোভিড-১৯ মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও শক্তি নীতি বদলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন, ইরান সংঘাত কি তেলের চাহিদার চূড়ান্ত বিন্দুতে পৌঁছানোর শুরু?
তথ্য
- জেপি মরগ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংঘাতের আগের তুলনায় চীনে তেলের চাহিদা ৯% কমেছে।
- মে ২০২৬-এ চীনের মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিল বৈদ্যুতিক, যা এক বছর আগের চেয়ে ৩৩% বেশি।
- ২০২৬ এপ্রিলে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা দৈনিক ৪৩ লক্ষ ব্যারেল কমেছে, মে মাসে তা বেড়ে ৫৬ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
- ইউরোপে হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি বাড়ায় নতুন যানবাহন নিবন্ধন গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
- ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) গঠিত হয় এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়নি কারণ সরকারি প্রণোদনা বাতিল হয়েছে।
Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি





