
নেপালের কূটনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তন দেখে একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আগ্রহী বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার মতো প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেন বৈঠক এড়াচ্ছেন? ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সদ্য ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত সর্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান বা বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনীতিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি এলাকা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলমান সীমান্ত বিবাদ। নেপাল ২০২০ সালে ভারতের তৈরি লিপুলেখ মহাসড়কের বিরোধিতা করে এবং এই রাস্তা দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে, লিপুলেখ নিয়ে বিরোধ ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি থেকেই চলে আসছে। স্বাধীনতার পর ভারত এই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে নেপাল আবার দাবি জানাতে শুরু করে। বলেন্দ্র শাহ এখন চীন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে নেপালের কূটনৈতিক স্বাধীনতা জাহির করতে চাইছেন।
ভারত এই ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলে মনে করছে, তবুও কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে নেপালকে ৮০,০০০ টন সস্তা রাসায়নিক সার সরবরাহের ঘোষণা করেছে, যা কূটনৈতিক চাপ কমানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেপাল স্থলবেষ্টিত হওয়ায় ভারতের উপর অর্থনৈতিক ও প্রাদেশিক নির্ভরশীলতা রয়েছে, কিন্তু কাঠমান্ডু এখন সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
তথ্য
- নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন।
- শাহ ঘোষণা করেছেন যে তিনি শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান বা বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
- নেপাল ২০২০ সালে ভারতের তৈরি লিপুলেখ মহাসড়কের বিরোধিতা করে এবং কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে।
- ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী নেপালের সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে লিপুলেখ ভারতের অধীনে আসে।
- ভারত নেপালকে ৮০,০০০ টন সস্তা রাসায়নিক সার সরবরাহের ঘোষণা করেছে কূটনৈতিক চাপ কমানোর জন্য।
Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি





