
জার্মানির অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণামূলক, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব পথ খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন আছে, এমন বিষয়ে আগ্রহী বন্ধুর সঙ্গে প্রেক্ষাপট মিলিয়ে দেখার মতো।

জার্মানির মডেলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি? ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য
পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি রাজ্যের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে জার্মানির যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত পশ্চিম জার্মানি মাত্র দুই দশকে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতির মর্যাদা পায়, যেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্প বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ছিল মূল চালিকাশক্তি। অর্থনীতিবিদদের মতে, করবৃদ্ধির পরিবর্তে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতির আকার বাড়ানোই রাজস্ব বৃদ্ধির কার্যকর পন্থা।
জার্মানির মডেলে বাজারকে গতিশীল করা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। মূল্যনিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, শিল্প উৎপাদনে উৎসাহ এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও মজুরি বৃদ্ধি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এই দর্শন অনুসরণে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব এসেছে। জ্বালানির মূল্য কমলে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ কমবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মানুষের হাতে বেশি অর্থ থাকবে, যা বাজারে নতুন চাহিদা সৃষ্টি করবে।
তবে বাস্তব প্রেক্ষাপট আলাদা। জার্মানি মার্শাল প্ল্যানের আওতায় বিপুল আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সামনে এমন সুযোগ নেই। রাজ্যের বিপুল ঋণ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের খরচ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বর্ধমান ব্যয় এবং অবকাঠামোগত চাহিদা রাজস্ব সংগ্রহে বাধ্য করছে। তাই কর কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবে জটিল। নতুন শিল্প, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন ছাড়া কর কমানোর সুফল স্থায়ী হবে না। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়া এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্য
- পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত জার্মানির যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের উদাহরণ তুলে ধরেছেন।
- যুদ্ধোত্তর পশ্চিম জার্মানি মাত্র দুই দশকে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জার্মানি মার্শাল প্ল্যানের আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল।
- পশ্চিমবঙ্গে কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে, কিন্তু বিপুল ঋণ ও সামাজিক ব্যয়ের কারণে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
- অর্থনীতিবিদদের মতে, কর কমানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠন জরুরি।
Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি





