ভারত মহাসাগরের গভীরে তিমির কঙ্কাল ও তার চারপাশে বিচিত্র সামুদ্রিক জীবের ডিজিটাল চিত্রকল্প
ভারত মহাসাগরের গভীরে তিমির কঙ্কাল ও তার চারপাশে বিচিত্র সামুদ্রিক জীবের ডিজিটাল চিত্রকল্প

এই সমাধিক্ষেত্রে জমা কার্বনের পরিমাণ স্পষ্ট করে, একজন পরিবেশ গবেষকের কাছে এর প্রেক্ষাপট দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

৫০ লাখ বছরের পুরনো সাগরের তলায় তিমির সমাধিক্ষেত্র ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

চীনা বিজ্ঞানীরা ভারত মহাসাগরের তলদেশে তিমির একটি বিশাল সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কার করেছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে গভীর ও প্রাচীন বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকাটি প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এবং কিছু অংশ ৭,০০০ মিটার গভীর। এখানে প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কয়েকটি ৫৩ লাখ বছরের পুরনো। এই আবিষ্কার নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলটি তিমিদের খাবার খোঁজার জন্য প্রিয় ছিল এবং 'ভি' আকৃতির খাদ মৃতদেহগুলোকে জমা হতে সাহায্য করেছে। তিমির মৃতদেহ গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলো খাদ্য ও আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। এই কঙ্কালগুলোতে থাকা চর্বি ও জৈব পদার্থ মিলিয়ে প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলায় আটকে থাকতে পারে।

ডুবোযান ফেনদৌঝে ব্যবহার করে ২০২৩ সালে এই গবেষণা চালানো হয়। বিজ্ঞানীরা রোবোটিক হাত দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, ক্রাস্টেশিয়ান এবং ব্রিটল স্টারসহ অসংখ্য প্রাণী তিমির মৃতদেহের ওপর নির্ভর করে বাঁচছে। গবেষকদের ধারণা, এই অঞ্চলে আরও এক কোটির বেশি তিমির মৃতদেহ থাকতে পারে।

এই আবিষ্কারকে আগের হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গভীর সমুদ্রের জীবন বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা বা ক্রোজেট দ্বীপপুঞ্জের কাছে অনুরূপ সমাধিক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

তথ্য

  • ভারত মহাসাগরের তলদেশে ১,২০০ কিমি জুড়ে তিমির সমাধিক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে গভীর ও প্রাচীন।
  • আবিষ্কৃত কঙ্কালগুলোর মধ্যে কয়েকটির বয়স প্রায় ৫৩ লাখ বছর, এবং প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল পাওয়া গেছে।
  • এই সমাধিক্ষেত্রে প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলায় আটকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • গবেষণা প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
  • চীনের গবেষকরা ২০২৩ সালে ফেনদৌঝে ডুবোযান ব্যবহার করে এই আবিষ্কার করেন।
  • এখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, ক্রাস্টেশিয়ান এবং ব্রিটল স্টারসহ অসংখ্য প্রাণী তিমির মৃতদেহের ওপর নির্ভর করে বাঁচছে।

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি