একটি ডিজিটাল মানচিত্রে এআইয়ের প্রভাব দেখানো হচ্ছে, যেখানে মানুষ ও রোবট একসঙ্গে কাজ করছে।
একটি ডিজিটাল মানচিত্রে এআইয়ের প্রভাব দেখানো হচ্ছে, যেখানে মানুষ ও রোবট একসঙ্গে কাজ করছে।

এআই চাকরি নয়, দক্ষতার মানচিত্র বদলাচ্ছে, এ বিষয়ে আগ্রহী তরুণদের সঙ্গে প্রেক্ষাপট ভাগ করা যেতে পারে।

এআইয়ের ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কাজের দুনিয়া ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত সেজং ইউনিভার্সিটির গবেষক ওমর বিন কাশিম ভুঁইয়া এআইয়ের প্রভাব কাছ থেকে লক্ষ্য করছেন। সেখানে এআই শুধু প্রযুক্তি নয়, অর্থনীতি, শিক্ষা ও জনসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাস আর মেট্রোর সময় থেকে শুরু করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন কেনাকাটা, শিক্ষা ও শিল্পখাতে এআইয়ের ব্যবহার নিত্যদিন বাড়ছে। কর্মক্ষেত্রে এআই এখন সহকর্মী হিসেবে কাজ করছে—রিপোর্ট খসড়া, মিটিং সারাংশ, কোডিং থেকে শুরু করে গ্রাহক সেবায় এটি মানুষের কাজের গতি বাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাপী এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ও সম্ভাবনা দুই-ই আছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম মনে করে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯.২ কোটি চাকরি রূপান্তরিত হবে, আবার ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হবে। আইএমএফ বলছে বিশ্বের ৪০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের প্রভাবে বদলাবে। মাইক্রোসফট-লিঙ্কডইনের জরিপে ৭৫ শতাংশ কর্মী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। কিন্তু দক্ষতার চাহিদা বদলাচ্ছে—ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সামাজিক দক্ষতার মূল্য বাড়ছে।

বাংলাদেশে এই প্রভাব আরও সংবেদনশীল। প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের ১৪ শতাংশ বেকার। এআই ফ্রিল্যান্সিং, মিডিয়া, শিক্ষা ও ব্যাংকিংয়ে রুটিন কাজ সস্তা করে দেবে। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলা লোকালাইজেশন ও ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্টে নতুন সুযোগ আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিভার্সিটি মঞ্জুরি কমিশন এআই ব্যবহারের নীতি তৈরি করছে। কিন্তু ডিজিটাল অবকাঠামো ও পুনঃদক্ষতাকরণের ঘাটতি চ্যালেঞ্জ।

এআই চাকরি শেষ করছে না, কাজের মানচিত্র বদলাচ্ছে। ভবিষ্যতে সফল হবেন তাঁরা, যাঁরা এআইকে সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করবেন, কিন্তু নিজের বিচারবুদ্ধি ছাড়বেন না। বাংলাদেশের জন্য এখন সময় হচ্ছে দ্রুত দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা এবং বাংলাভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা।

তথ্য

  • দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই দৈনন্দিন জীবন, যানবাহন, শিক্ষা ও শিল্পে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
  • ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম মনে করে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯.২ কোটি চাকরি রূপান্তরিত হবে এবং ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হবে।
  • বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের ১৪ শতাংশ বেকার।
  • মাইক্রোসফট-লিঙ্কডইনের জরিপে ৭৫ শতাংশ কর্মী জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিভার্সিটি মঞ্জুরি কমিশন এআই ব্যবহারের নীতি নির্ধারণে কাজ করছে।

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি