একটি আবহাওয়া মানচিত্রে ভারত উপমহাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বায়ুপ্রবাহ ও উষ্ণ সমুদ্রের তাপমাত্রা দেখাচ্ছে, পাশে এল নিনো নামে একটি শিশুর ছবি।
একটি আবহাওয়া মানচিত্রে ভারত উপমহাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বায়ুপ্রবাহ ও উষ্ণ সমুদ্রের তাপমাত্রা দেখাচ্ছে, পাশে এল নিনো নামে একটি শিশুর ছবি।

জলের সময় বদলাচ্ছে, এই প্রেক্ষাপট কৃষি নিয়ে আগ্রহী কোনো বন্ধুর সঙ্গে বোঝার মতো।

‘খোকাবাবু’ এল নিনো ফিরেছে, জলের ঘড়ি বদলাবে ঘটনার ধারা ও মূল তথ্য

২০২৬ সালে পুনরায় এল নিনো বা ‘খোকাবাবু’ ফিরেছে, যা বাংলাদেশসহ গোটা ভারত উপমহাদেশের আবহাওয়া ও কৃষিক্ষেত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বছর ১১ জুন ঘটিত এল নিনো ঘটনাটি প্রায় ১৪০ বছর পর সুপার এল নিনো হিসেবে ঘটেছে, যা সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বায়ুপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ফলে বর্ষার সময় বদলাচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে অনিয়মিত ও বিচ্ছিন্ন।

এ পরিস্থিতিতে আমন ধানের ফলন ঝুঁকির মুখে, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চল। আগামী বোরো মৌসুমেও খরার আশঙ্কা বাড়ছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপপ্রবাহ বাড়বে, দিনের তাপমাত্রা গড়ে ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। রাতেও তাপমাত্রা কমবে না, যা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রভাব কম করতে সুপরিকল্পিত খাল খনন ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ জরুরি। সরকার খাল খননের পরিকল্পনা শুরু করেছে। এল নিনোর প্রভাব সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত থাকে, তাই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তথ্য

  • ২০২৬ সালের ১১ জুন সুপার এল নিনো ঘটেছে, যা প্রায় ১৪০ বছর পর ঘটেছে।
  • এল নিনোর কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টি হবে অনিয়মিত, বিশেষ করে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত।
  • আমন ধানের ফলন ঝুঁকির মুখে, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, রংপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চল।
  • জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা গড়ে ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।
  • এল নিনোর প্রভাব সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত থাকে।
  • সুপার এল নিনোর আগের ঘটনায় ভারত উপমহাদেশে দেড় কোটি মানুষ মারা যায়।

Canto-র ভিজ্যুয়াল সংবাদ ব্যাখ্যা। প্রযোজনায় AI সহায়তা করতে পারে। সম্পাদনা নীতি